Samachar Live
পাঁচ মিশালি

অজিত ডোভালের কর্ম জীবন

সিনেমার উত্তেজনাকেও হার মানাবে অজিত ডোভালের কীর্তি

ভারতের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ নিয়ে এখন চর্চায় মগ্ন সমগ্র বিশ্ব। পাকিস্তান ছাড়া সকলেই বলছে যে, ‘উচিত শিক্ষা দেওয়া হয়েছে জঙ্গিদের।’ এই সমগ্র ঘটনার পিছনে যার ক্ষুরধার মস্তিষ্ক কাজ করেছে তিনি হলেন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। সাম্প্রতিক কালের এই ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ ছাড়াও বহু দুঃসাহসিক কীর্তি রয়েছে ১৯৬৮ সালের কেরল ক্যাডারের এই আইপিএস অফিসারের ঝুলিতে। যেগুলি সিনেমার উত্তেজনাকেও হার মানাবে।২০০৪-০৫ সালের ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর ডিরেক্টর ছিলেন অজিত ডোভাল। এর আগে সাত বছর ভারতীয় গুপ্তচর হিসেবে কাটিয়েছিলেন চিরশত্রু পাকিস্তানের মাটিতে। এই বিষয়ে বিন্দুমাত্রও কেউ টের পায়নি। সেই সময়ের খেলা চালেই ছোটা রাজনের মতো ডনকে গ্রেফতার করা হয় ২০১৫ সালে।

ভারতের এই জেমস বন্ডের কীর্তির যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৭৩ সাল থেকে। সেই সময় সিকিমের রাজ্য সরকারের সঙ্গে রাজস্ব নিয়ে বিবাদ তৈরি হয়েছিল কেন্দ্রের। সেই সুযোগটাকেই হাতিয়ার করে সমগ্র সিকিমকে নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়েছিল লাল চিন। সেক্ষেত্রে বেজিং-এর যুক্তি ছিল, সিকিম তিব্বতের অংশ। সেই কারণে সিকিম চিনের অধীনে থাকবে। সেই সময় আইপিএস অজিত ডোভালের সূক্ষ্ম কৌশলে সিকিমে সেনা মোতায়েন করে গণভোটের ব্যবস্থা করে দিল্লি। এবং আজ সিকিম ভারতের একটি অঙ্গরাজ্য।

ষাটের দশকে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয় বর্তমান মিজোরাম রাজ্যে। সেইসময় মিজোরাম ছিল আসাম(বর্তমান অসম) রাজ্যের একটি জেলা। মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট(এমএনএফ) নামক এক সংগঠনের আন্দোলনের জেরে ওই এলাকাটি তখন সরকারের নাগালের বাইরে। কেন্দ্রের তরফ থেকে মিজোরামকে পৃথক রাজ্যের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়েও চলছে ভাবনাচিন্তা। যদিও তখন ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পৃথক রাষ্ট্রের দাবি করতে শুরু করেছে আন্দোলনকারীরা।আন্দোলন থামাতে মিজো ন্যাশনাল আর্মড ফোর্স গঠন করেছে দিল্লি। ১৯৬৬ সালের ১লা মার্চ নিজেদের স্বাধীন বলে ঘোষণা করে এমএনএফ। বিভিন্ন প্রশাসনিক পদ এবং নিরাপত্তা কর্মীও নিয়োগ করে এমএনএফ। ক্রমবর্ধমান হিংসা প্রশমিত করতে আসরে নামানো হয় অজিত ডোভালকে। এমএনএফের সাত শীর্ষ নেতার ছয় জনকে নিয়ে আসেন সরকারের পক্ষে। যার ফলে ভেঙে যায় এমএনএফের মেরুদণ্ড। দীর্ঘ ২০ বছর পর ১৯৮৬ সালে শেষ হয় এমএনএফের আন্দোলন। পৃথক অঙ্গরাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায় মিজোরাম।

দুই দশক আগে কুকা প্যারি নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে উত্তপ্ত হয়েছিল ভূস্বর্গ জম্মু-কাশ্মীর। ভারত সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ জারি রাখতে মগজ কুকা প্যারি তৈরি করেছিল ইখয়ান-ই-মুসলিমুন নামের একটি সংগঠন। সংগঠনের মাথার মগজ ধোলাই করে ওই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছিলেন অজিত ডোভাল।

১৯৮৮ সালে খালিস্তানি জঙ্গিদের হাত থেকে পঞ্জাবের স্বর্ণমন্দির রক্ষা করার পিছনে সব থেকে বড় অবদান ছিল আইপিএস অজিত ডোভালের। যখন স্বর্ণমন্দিরের দখল নিয়েছে জঙ্গিরা সেই সময় ওই মন্দির সংলগ্ন এলাকায় রুজির টানে হাজির হয়েছিল এই রিক্সাওয়ালা। যিনি খালিস্তানি জঙ্গিদেরকে নিজেকে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর এজেন্ট বলে পরিচয় দিয়েছিল। ভারতীয় সেনার অভিযানের দিন কয়েক আগে খালিস্তানি জঙ্গিদের প্রভাবিত করে সেই রিক্সাওয়ালা ঢুকেছিল মন্দিরের ভিতরে। পাক গুপ্তচর হওয়ায় খালিস্তানি জঙ্গিরা তাকে মন্দিরের ভিতরে নিয়ে গিয়ে দেখিয়েছিলেন সার্বিক পরিস্থিতি। সেই রিক্সাওয়ালার থেকে মন্দিরের ভিতরে জঙ্গিদের অবস্থান এবং গতিবিধি সম্পর্কে অবগত হয় ভারতীয় সেনা। এবং খালিস্তানি জঙ্গিদের হটিয়ে স্বর্নমন্দিরের দখল নেয় ভারতীয় সেনা। সেদিনের সেই রিক্সাওয়ালা আর কেউ নন ছিলেন আইপিএস অফিসার অজিত ডোভাল।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More