Samachar Live
সফর

ঘরের কাছেই আরশিনগর

হাতে ছুটি নেই ?

অথচ মন চাইছে পালিয়ে যেতে । যেখানে অফিসে যাবার তাড়া নেই । সামনে ফাইল বা  বসের চোখ রাঙানি নেই । আওয়াজ বা ভিড় থেকে মুক্তি পেতে চাইছে মন।

তাহলে শনিবার ভোরবেলায় বেড়িয়ে পড়ুন ।

দুর্গাপুর থেকে ৩৮কিমি ,রাণিগঞ্জ থেকে ৩২ কিমি ও বাঁকুড়া স্টেশন থেকে ২৫কিমি দূরত্বের জায়গাটার নাম গ্যাংদুয়া ড্যাম।

রাস্তার দুধারে শাল,পলাশ,নিম গাছের জঙ্গল।মসৃণ সুন্দর চওড়া রাস্তা।মাঝে মধ্যে ডাম্পার ,বাইক-ফোর হুইলার বা বাস চোখে পড়বে।গাড়ির গতি আশিতে উঠবেই উঠবে।

জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে নির্জন রাস্তা পাবেন মাঝে মধ্যে।অচিনপুরে যাওয়ার হাতছানি দেবে ।

প্রথমে পড়বে গঙ্গাজলঘাঁটি । গঙ্গাজলঘাঁটি কলকাতার বড়বাজার।প্রতিদিন সকালে হাট বসে।তবে বিকেলে ফাঁকা।যাবার পথে ওখানে গাড়ি থামিয়ে খেয়ে নিতে পারেন চা আর বড় বড় গরম সিঙারা।ল্যাংচাও চমৎকার । মেচা সন্দেশ অবশ্যই খাবেন ।

অমরকানন নামটার মতোই  জায়গাটা সুন্দর । এখনকার  রামকৃষ্ণ আশ্রমটা দেখে নিতে পারেন। এরপর চলুন গ্যাংদুয়া ড্যাম।মেন রোড থেকে দেড় কিলোমিটারের দূরত্ব।রাস্তার দুধারে ধান ক্ষেত,কলামের আমগাছের বাগান।নিকোনো মাটির বাড়ি আর ইতিউতি ঘুরে বেড়ানো মুরগি,ছাগল-গরু-ভেড়া দেখতে দেখতে চলে আসবেন গোবিন্দধাম কলেজ।তারপরই গ্যাংদুয়া ড্যাম।রাস্তা ভাল।বড় গাড়ি অনায়াসে ঢুকে যাবে।শীতকালে পিকনিকের আদর্শ জায়গা।তার নিদর্শন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা থার্মোকলের থালা-বাটি দেখেই বোঝা যাবে।জানি না মানুষ কবে সচেতন হবেন।

চারিদিকে ইউক্যালিপ্টাসের বন।শ্যালি নদির পাশে গেস্ট হাউসটা যেন সুন্দরীর মুখের বিউটি স্পট।উল্টোদিকে একটা চিল্ড্রেনস পার্ক।আর একটু নিচে সুন্দর বসার জায়গা।নিশ্চিন্তে প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নিন।যে দিকেই তাকাবেন সবুজের সমারোহ।নাতিদীর্ঘ ড্যামটা হেঁটে নিন।তারপর শুরু হবে গ্রামছাড়া ওই রাঙামাটির পথ।

এতটাই নির্জন যে গাছের পাতার ফিসফিসানি আপনার কানে বাজবে।নদিতে সূর্যের চোখরাঙানির মধ্যে কোন ডিঙি নৌকা আর ঘন নীল আকাশে পেঁজাতুলোর মত সাদা মেঘে একঝাঁক উড়ন্ত পাখি দেখে মনে হবে বুঝি ক্যালেন্ডারের পাতার ছবি।

পঞ্চায়েতের গেস্টহাউসটা নতুন।এখনো কাজ চলছে।ওপরে উঠে দেখলাম,বিরাট বড় দুটো ঘর।চোখের আন্দাজে ১৪’/২০’। আধুনিক বড় টয়লেট।একটা ঘরে শুধু একটা গদি দেওয়া বড় খাট।আর একটা ঘর একেবারেই ফাঁকা।নিচে খাবার ঘর ইত্যাদি তৈরির পথে।এসি নেই।তবে চারিদিক ফাঁকা। কোন বাড়ি-ঘর একমাইলের মধ্যে নেই।জানলা দিয়ে যেদিকেই তাকানো যাবে শ্যালি নদি আর জঙ্গল।হু হু করে হাওয়ার আদর সামলানো মুশকিল।ঘর বুক করার পদ্ধতি জিজ্ঞাসা করার মত কেউ নেই।মিস্ত্রিরা জানে না।আমিও নাছোড়।অবশেষে ড্যামের চৌকিদার মহাদেব সিং এলেন।বললেন,রান্নার ব্যবস্থা এখনো হয়ে ওঠেনি।হচ্ছে।তবে ওনাকে বললে গ্রাম থেকে ব্যবস্থা করে দিতে পারেন।ঘর বুক  অমরকানন ব্লক অফিস থেকে হয়।ভাড়া বলতে পারেন নি।তবে আশা করি সাধ্যের মধ্যে।চোর ডাকাতের উৎপাত নেইই।গরিব খেটে খাওয়া গ্রামবাসী।পারলে পুরনো জামা-কাপড় নিয়ে বিলি করে আসবেন ।

ওখান থেকে মাত্র ছয় কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত কড়ো পাহাড়।ভারি সুন্দর।ছোট টিলা বলা যায়।বহু পুরনো একটা কাঁঠাল গাছ দেখবেন।দেখবেন অজস্র আমগাছ,কাঠচাঁপা গাছ।পাহাড়ে ওঠার চওড়া সিঁড়ি আছে।বিশ্রাম নিয়ে উঠলেও বড়জোর পনেরো মিনিট লাগবে।চারিদিকে ইউক্যালিপ্টাস,মহুয়া আর নিমগাছের সমারোহ।পাহাড়ের চূড়ায় পার্বতী মায়ের মন্দির।পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন,দেওয়াল ভর্তি নানা বাণী লেখা।একটা যজ্ঞ ডুমুরের বড় গাছ দেখতে পাবেন।পুজোর উপকরণ ওখানে পাবেন না।

নির্জনতার মাঝে পাথরের ওপর চুপচাপ বসে থাকুন,দেখবেন কী অপার শান্তি।পাহাড়ের ওপর থেকে শ্যালিড্যামটা রূপালি ফিতের মত লাগবে।অস্তগামী সূর্যের রঙ তখন গাছের পাতায় ছড়িয়ে পড়েছে।তপোবন আশ্রমে আগে থাকতে বলে রাখলে ভোগ পাবেন।শুনেছি থাকার বন্দোবস্ত আছে।ফোন নম্বর ৯৪৩৪৩৯৩০৩৫/৯৪৭৪১০০১৮২।

 

রাতে অসুখ-বিসুখে ভরসা শময়িতা মঠের হাসপাতাল।ফোন নম্বর ৮৬৪১০৫৫১৩৫/০৩২৪১২৬৫৫০১২

শুশুনিয়া পাহাড় কিন্তু খুব দূরে নয়।২৫/২৬ কিমি।বিহারীনাথ ও দূরে নয়।বরন্তীও ডাক দিতে পারে।সময় কতটা দিতে পারবেন সেটা বুঝেই যাবতীয় প্ল্যান।

সঙ্গে গাড়ি থাকাটা জরুরি।তাহলে এদিক-ওদিক যাবার স্বাধীনতা থাকবে।নাহলে ভাড়া করতে হবে।

এরকম জায়গা দেখলে মনে হবে-ডাকছে আকাশ ডাকছে বাতাস…নতুবা শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সেই কবিতার লাইনটা মনে পড়বেই,”পথ হারিয়ে যায় যেদিকে,সেদিকে পথ আছেই/ঝরনা,কাঁদড়,টিলা,পাথর বনভূমির কাছেই।”

Must Read

বাঁকিপুটের বালুকাবেলায়

Uttal Chakroborty

চমৎকার চটকপুর

Uttal Chakroborty

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More