Samachar Live

প্রথমেই নামকরণ দেখে অনেকেই ভাবগম্ভীর   এক রচনা ভেবে মন দিয়ে পড়তে বসেছেন।  রচণাটি এগুবে আর আপনারা অবশ্যই হাসবেন-আসল কথা আমি সিরিয়াস থুড়ি গুরুত্বপূর্ণ   কিছু লিখছিনা। সমাজে নারীর অধিকার,শিশুশ্রম,বিচ্ছেদের পর সন্তানের সমস্যার কথা তো আমরা অনেক পড়ি কিন্তু বিবাহ-বিচ্ছেদ নামক শিল্পটির শিল্পী কজন? রাতে তুমুল ঝগড়া-তু তু ম্যাঁঁয় ম্যাঁয়-সকালে আজ মাছ আনবো না চিকেন? গিন্নীমার জবাব“-আমার মাথা”। কর্তা ফিরেছেন বড় কাৎলা নিয়ে-গিন্নি মাথা দিয়ে মুড়িঘন্ট আর কাৎলার কালিয়া আর সাথে সবজি  চাটনি দিয়ে অফিসের ভাত দিলেন। কর্তা অফিস থেকে ফেরার পথে গিন্নির পছন্দ অনুযায়ী  ভ্যানিটি ব্যাগ হাতে হাজির। ভুলে যাবেন না-ভুলে যাবেন না-এরাই আগের দিন বিবাহ-বিচ্ছেদ করতে যাচ্ছিল।  পাড়ার হারু উকিলের কাছে সকালেই যেতো,যায় নি কিন্তু !ভালো শিল্পী  নয়।  বিবাহ বিচ্ছেদ  বা ডিভোর্স ও একটা শিল্প কিন্তু ! বহু নিম্ন মধ্যবিত্ত   পরিবারের   ডিভোর্স এখনও অদ্ভুত এক জিনিস। স্বামী পুজোতে সিল্কের শাড়ি দেয়নি-অভিমানে স্ত্রী আত্মঘাতী (যদি প্রেসের বুজরুকি না হয়) -খবর কাগজের দ্বিতীয় পাতার খবর যেদেশে সেখানে  ডিভোর্স চাওয়ার কারনগুলোও অলীক।  ছোট ফালতু ইগো, অসহনশীল মানসিকতা- আনে কাক-চিল উড়ে যাওয়া ঝগড়া-তাতে ছেলেমেয়ের পড়ার ক্ষতি-নিজেদের  মানসিক ক্ষতি মাত্র। মনে মনে দু পক্ষই বোঝে এটার কোনো মানে হয় না কিন্তু  চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী!

ঘরের বৃদ্ধ মানুষটা হয়তো প্রেশারের ওষুধ খেতে ভুলে যায়, ছোট ছেলেটা হয়তো  অপরিণত বুদ্ধিতে নিরাপত্তাহীনতাতে ভোগে। কিন্তু  মনের উপর সংযম  কই ? বিচারকরাও জানেন-  এদেশের ডিভোর্সের  আসল কারণ,ওটা আইনের বইয়ের বাইরে।  বিচ্ছেদ করতে চাওয়া দম্পতি-সামান্য পুরী দীঘা গিয়েই মত বদল করেন। ঝগড়াটা হয়তো  কর্তার অফিসের বসের মতো সিঙ্গাপুর না যেতে পারা নিয়ে হয়েছিল কিন্তু  বাড়ির কাছের তীর্থস্থান ক্ষোভটা মিটিয়ে দিলো।  আসলে আসামী কেউ নয়। রোজ অফিসের চাপ,বাবার ওষুধ,শালার বিয়ে,ব্যাঙ্ক,পোস্ট অফিস সামলানো মানুষগুলো মিষ্টি কথা চায় কিন্তু   শাশুড়ী  পিসপিশুড়ী সামলানো গৃহবধুর আজকাল  মানসিক পরিধিটা বড্ড আলাদা যে! বাবা মায়ের এক কি দুই সন্তানের একজন উচ্চশিক্ষিতা মেয়েরা বোধহয় সুবর্ণলতা হতে চায় না। বেশির ভাগ মেয়ে কিছু না কিছু চাকরি কি ব্যাবসা করে আজকাল ,সন্তানের মন-মানসিকতার চাপটা তার উপর সবচেয়ে   বেশি বর্তায়।  শ্বশুরবাড়ির পরিকাঠামো  অনেক বদলালেও পরের বাবা মা কি নিজের  বাবা মা হয়ে উঠতে পারে?  চাকরিতে দেরি হলে লাল দাগ তারও পড়ে! তবে কিসের পুরুষতান্ত্রিক শ্বশুরবাড়ি ?  মেয়েরা টিকে আছে মধ্যপ্রদেশের খেঁদি পিসী,কি বলবে? ডিভোর্স হলে-মা কাকিমা যেটা করেনি সেটা কি করা ঠিক?   মেয়েদের   একটা আমগাছ   দরকার ,যার গায়ে মাধবীলতার মতো ভর করবে। ফুলগুলো তার নিজের কিন্তু  আমগাছটাতে ঘুন ধরলেও চলে। গাছ উপড়ানোর ভয়ে মাটি কামড়ে  পড়ে আছে।  সন্তানের পিতৃপরিচয়, বাপের বাড়ির ভাই ভাইবৌয়ের কাছে আবার কখনও মা-বাবার কাছে আত্মসম্মান – এই বিয়ে নামক বস্তুটি।  ছেলেদের   কাছেও নিরাপত্তা  কিন্তু  বিয়েটা,যা পেয়েছি তার চেয়েও কম যদি পাই! আসলে মানসিক   ভাবে প্রকৃতই দুর্বল ওদের বেশিরভাগ  ।  আগে মা সামলেছে আর এখন বৌ সামলাবে-মেয়েরা সংসারে অনেকটা নিকোটিন । অবদমিত  এক মানুষের উপর গর্বের অপর নাম পুরুষত্ব। বৌ ছেড়ে গেলে-গুমোর টিকবে কি? টিকবে কি পুরুষত্ব?  আপাত সুখী তুতোভাই কি বন্ধু আড়ালে কি মুখ টিপে হাসছে না? ওরা তো ফেসবুকে বিবাহবার্ষিকীর ছবি দিলো তারা হোটেল থেকে।  আর আমার ডিভোর্স? আজকাল  সোনার আংটিও বাঁকা! সকালে বৌয়ের প্রিয় ডাঁটা এনেছে বাজার থেকে-রাত্রের কড়াকথাতে ভালোবাসার মধুর প্রলেপ। ভাবে গদগদ স্বামী সোহাগিনীর ঠোঁটের কোণে গর্বের হাসি!আমাকে কত্ত ভালোবাসে! কালিয়াতে ইস্কুলের দেরি করে চারমগজ-পোস্ত-কাজু বেঁটে মিশিয়েছে আজ। যদি বলে অপূর্ব হয়েছে-একটা মেডিকেল   নিয়ে ছুটি মানাবে। সি এল তো কবেই শেষ ছেলের দাঁত তোলা,ঘাটশিলা বেড়াতে যাওয়া আর মাসতুতো   ননদের বিয়ে ইত্যাদিতে।  যাহোক ডিভোর্স যারা বছরে তিন চার বলে, ওরা কখনই করেনা। সাহস লাগে!কি প্রথম যোনি আর কি দ্বিতীয়  যোনি! বিয়ে মানে নো হানি। বিয়ের সুখের মুলধন মানি, দেন বিবাহ ইজ সুইট জার্ণি।

মাফ করবেন-এটা স্বরচিত বাংলিশ(বাংলা+ইংলিশ)। এবার আসি-“গতস্য শোচনা নাস্তি”।  বিবাহিত   কিম্বা বিবাহিতাদের এনিয়ে বেশি বলতে নেই।  মধুরেণ সমাপয়েৎ। এরকম বিবাহ-বিচ্ছেদ রোজ হোক।  হতাশা মিশ্রিত জীবনে  রাগের বিস্ফোরণের   প্রয়োজন আছে,নইলে সেরিব্রাল হবে না কে বলতে পারে?

স্বত্ব সংরক্ষিত

Must Read

জোয়ার -ভাটা

Sandwip Chakrabarty

দূরত্ব- ছোটগল্প

Sandwip Chakrabarty

কিশোর ছেলে

Pranoy Acharya

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More