Samachar Live

সুমনা বলে উঠলো “হ‍্যা গো শুনছো… নীলের এবার নাইন থেকে টেনের ফাইনাল পরীক্ষার রেজাল্টটা  খারাপ হলো কেন বলো তো”? “আমি কি করে জানবো বলো তো! আমি তো এই একবছর বাড়িতেই থাকি না। মাসের ত্রিশ দিনের মধ‍্যে পঁচিশ দিন বাইরে থাকি”…। একটু থেমে বিকাশ বললো- “সুমনা আমি তোমাকে কতবার বলেছি আমি এখানে থাকি না,ছেলেটাকে তুমি একটু ভালো করে গাইড করো। নাও এবারে ঠ‍্যালা সামলাও”।

“সব দোষটা আমার ঘাড়ে দিয়ে দিলে তাইতো? মনে হচ্ছে আমি বাড়িতে থাকি বলে সব রেসপন্সিবিলিটি একাই আমার। আর তুমি দূরে থাকো বলে সব দায়িত্ব শেষ”। ” তা কেন হবে। ক্লাস এইটে যে ছেলেটা এত ভালো রেজাল্ট করেছিলো একবছরের মধ‍্যে তার এই পরিণতি”! সুমনা খুব উৎকন্ঠার সাথে বললো- “স্কুলে কোন প্রবলেম হল কিনা কে জানে। তুমি একবার ফাদারের কাছে যাও না”। “আচ্ছা ফাদারের কাছে গেলেই সব সমস‍্যার সমাধান হয়ে যাবে? স্কুলের সাতঘন্টা বাদদিলে বাকি সতেরো ঘন্টা তো নীল বাড়িতেই থাকে। তুমি তো সবথেকে বেশী ভালো বুঝতে পারবে”।

সুমনা এই একবছর হলো নতুন করে ফেসবুক ফ্রেণ্ড অর্কর সাথে বেশী মেলামেশা শুরু করেছে। ছেলে বড় হয়েছে বলে মা সেই অজুহাতে বলে দিয়েছে তুমি একা একা পাশের ঘরে ঘুমাবে। মা অন‍্যঘরে একা একা সারা রাত ধরে চ‍্যাট। নিজের মনে মনে হাসি ঠাট্টা। কখনো চ‍্যাট থেকে ফোন।খুব আস্তে আস্তে ঘন্টার পর ঘন্টা। হাসি ঠাট্টার বিরাম নেই। এদের এই নব‍্য সম্পর্কটা ছিল নিতান্ত‌ই বন্ধুর মতো। সেখান একটু বেশী চ‍্যাট একটু বেশী কথা বলা। সেখান থেকে ব‍্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দের পরিসরে ঢুকে পড়া,যার যেখানে দূর্বল জায়গা আছে সেখানে সহনাভূতির ছোঁয়া দিয়ে নিজের মমত্ববোধকে জাগিয়ে তোলা।

বিকাশ‌ এই একবছর চাকরির সূত্রে মাসে পঁচিশ দিন বাইরে থাকে। প্রথম একমাস স্ত্রী পুত্র ছেড়ে  বাইরে থাকতেই ভালো লাগতো না। হঠাৎ করেই ছন্দপতন। একা একা বাইরে কাটানো জীবনে ধীরে ধীরে অফিস কলিগ পার্নোর সাথে আলাপ। আলাপ থেকে বন্ধুত্ব, বন্ধুত্ব থেকে মাখামাখি। কতদিন পার্ক আর রেস্তোরাঁ ঘুরবে!প্রথম প্রথম সপ্তাহে একদিন, একদিন থেকে দু’দিন তারপর প্রতিদিন বিকাশের ভাড়া বাড়িতে
আসা- যাওয়া। শুধু রাতটুকু আর অফিসের সময়টুকু ছাড়া বাকি সময় বিকাশের বাড়ি। পারলে পার্নো মা কে বিপদের দোহাই দিয়ে ভুল বুঝিয়ে কখনোও কখনোও বিকাশের বাড়ি রাত্রিবাস। বিকাশ‌ও মনে মনে জানে তার স্ত্রী অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে আছে আর সুমনাও জানে তার স্বামী অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে আছে। তবু মাসে পাঁচটা দিন একছাদের তলায় বাস। মনবিহীন শরীরটাকে স্বামী- স্ত্রীর সম্পর্কে একে অপরের কাছে তুলে ধরে প্রমাণ করতে চায় তাদের বন্ধন অটুট।

দু’জনে মিলে নীলকে জোর তলফ করা হলো “রেজাল্ট কেন খারাপ হলো”? নীল তখনও চুপ। বিকাশ আর‌ও ধমক দিলো “কেন রেজাল্ট খারাপ? বল ,এক্ষুণি বল না হলে কিন্তু”….নীল মাথানীচু করে অনেকক্ষণ থাকার পর বললো ” আমার খুব একা লাগে… পড়ায় মন আসে না। আগে একঘরে সবাই মিলে যখন শুতাম তোমরা ঘুমিয়ে গেলেও আমি টেবিল ল‍্যাম্পে অনেক রাত পর্যন্ত পড়তাম। তুমি ঘুমিয়ে গেলেও বেশিরভাগ সময় মা জেগে থাকতো। পরীক্ষার সময় তোমরা দু’জনেই দাঁতে দাঁত চেপে আমার সঙ্গে লড়তে। তুমিও বাইরে চলে গেলে। মা বললো আমি নাকি বড়ো হয়ে গেছি তাই রাত্রিবেলায় এইঘর থেকে ওইঘরে।…. নীলের দু’চোখ ভরে জল গড়িয়ে গড়িয়ে টপটপ করে মাটিতে। অনেকক্ষণ থেমে… “আমি বড়ো হতে চাই না বাবা.. আমি তোমাদের কাছে সবসময় ছোট হয়ে থাকতে চাই, তোমাদের আর‌ও কাছে পেতে চাই। এই ছবিটা দেখো না… দেখো ছোট্টোবেলায় আমি মাঝখানে তুমি একদিকে আর মা একদিকে ঠিক এইরকম সবসময়ের জন‍্য।

Must Read

নিধিরাম বাটপার

Sambuddha Chatterjee

প্রাণের উৎসব – রঙের উৎসব

Amitava Roy

বিবাহ-বিচ্ছেদ – (মধুরিমা রায়)

Madhurima Ray

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More